পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা-গাজীপুর, ৬৭৯ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬
ক্যাটাগরি: জাতীয় / বাংলাদেশ
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানী ঢাকা, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনে নেমেছেন পোশাক শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় দেশের ৬৭৯টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

কেন আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকরা?
শ্রমিকদের প্রধান দাবি হলো মাসিক ন্যূনতম বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং পরিবারের খরচ সামলাতে বর্তমান বেতন যথেষ্ট নয় বলে দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা।
বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কিছু এলাকায় যান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।
শ্রমিকদের দাবিতে গঠন করা হয়েছে মজুরি বোর্ড
শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি পর্যালোচনার জন্য সরকার ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে শ্রমিকদের দাবি এবং মালিকপক্ষের আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় একটি অংশ আসে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহে বিলম্ব, রপ্তানি আদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এখন সবার নজর কোন দিকে?
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি, কারখানার উৎপাদন এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সূত্র: Reuters ও Prothom Alo-এর ২ নভেম্বর ২০২৬-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন।